অজানা আতঙ্ক
আতিক রাসেল
ওমা ,মা বিস্কিট খাব। মা দাও না বিস্কিট দাও না। ছেলেটা হয়েছে একরোখা স্বভাবের যা বলবে বলতেই থাকবে। যা চাইবে তা তাকে দিতেই হবে। অভাবের সংসার কুলসুমদের, শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর-ননদ মিলে নয় জন সদস্য তাদের পরিবারে। অথচ তার স্বামী করিম এই সংসারে এক মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি তার পক্ষে বিশাল পরিবারের সবার মুখে দু’বেলা মুঠো খাবার তুলে দেয়া ও সম্ভব হয়না। ছেলের বায়না পুরন করাতো দুরের কথা...........।করিম ঘরে এসে দেখে ছেলে কাঁদছে। বৌকে জিজ্ঞেস করে,“ছেলে কাঁদছে কেন?” বিস্কিট খাবে ওকে বিস্কিট দেই কোত্থেকে। আজকাল বাজারের যা অবস্থা শুধু চাউল কিনতেই পকেটের টাকা পুরিয়ে যায়। যেই লঙ্কায় যায় সেই হনুমান হয়। লোকজনকে দ্রব্য মূল্যের দাম কমাব ঐ করব সেই করব বলে ক্ষমতায় আসে। তার পর সব ওয়াদা ভুলে নিজের আখের গোছাতেই ব্যস্ত হয়ে যায়।
এই থাম, ভাত খেতে পাইনা উনি বিস্কিট খাবে। কুলসুম ছেলেকে থামানোর চেষ্টা করে কিন্তু জনি থামতে চায়না। কুলসুম বলে ভুত, ঐ যে ভুত আসছে ধরে নিয়ে যাবে। ভয়ে ভয়ে জনি থামে।
পরদিন আবার জনি কাঁদে মা পিঠাখাব কুলসুম ছেলেকে থামতে চেষ্টা করে থেকে পারেনা শেষে বলে বিড়াল আসতেছে বিড়াল। পাশে থেকে ওর ননদ ম্যাউ ম্যাউ বলে চিৎকার করে ভয়ে ভয়ে জনি থামে একসময় ঘুমিয়ে যায়।
পাশের ঘরের কেউ একজন চিপস খাচ্ছে জনি এসে মাকে বলে মা চিপস দাও। কান্নাকটি শুরু করে। কখনো বুঝিয়ে, কখনো ধমক দিয়ে, আবার কখনো ভুতের ভয় দেখিয়ে ছেলেকে ভুলিয়ে রাখে কুলসুম। করিম এই মাত্র মাঠ থেকে কাজ করে ফিরেছে মেজাজ চড়া। সারাদিন খাটাখাটনি করায় মেজাজ এমনিতেই হাই স্কেলে থাকে। বাসায় ফিরে কন্নাকাটি দেখতে ভালো লাগেনা তার। ছেলেকে কাঁদতে দেখে। একটা ধমক দেয় সে থাম ! জনি ভয় পায় কিছুক্ষণ পর আবার চিপসের জন্য কেঁদে উঠে। করিম ধপাস করে একটা থাপপড় মারে জনির গায়ে ছেলেটা কাঁপতে কাঁপতে মাকে জড়িয়ে ধরে।
ছেলের কান্না থামানের জন্য কুলসুম মাঝে মাঝে বলে তোর আব্বু আসতেছে থাম । জানি ভয়ে ভয়ে থামে। সে বুঝে বিড়াল ভুত, আব্বু এগুলো হিং¯্র প্রাণী। মাঝে মাঝে কুলসুম বাঘের ভয় দেখায় শিয়ালের ভয় দেখায়। জনি ভাবে তার চারপাশে অসংখ্যা হিং¯্র প্রাণী আছে এ গুলো যে কোন সময় তার ক্ষতি করতে পারে।
জনি একটু একটু করে বড় হয়। প্রচন্ড ধরণের আতঙ্ক গ্রস্থ হয়ে সে বেড়ে উঠে। একদিন রাতে কিভাবে যেন তার মশারির মধ্যে একটা তেলা পোকা ঢুকে যায় জনির প্রচন্ড চিৎকার আর চেচামেচিতে। সবই এসে জড় হয়ে দেখে একটা তেলা পোকা। বাড়িতে হাঁসির রোল পড়ে যায়।
জনি রাতে ঘর থেকে বেরুতে পারেনা অন্ধকারে তার ভয় লাগে ভুতের ভয়। প্র¯্রাব করতে হলে কুলসুমকে বেরুতে হয় তবু ও মাঝে মাঝে দৌড় দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ে সে দেখে বিশাল দেহ বিশাল বিশাল পা ওয়ালা ভুত তার দিকে এগিয়ে আসছে।
তার মা তাকে স্কুলে ভর্তি করালো কিন্তু সে একা একা স্কুলে যেতে চায়না। রাস্তা ঘাটে দিনের বেলায় ও ভুত জ্বিন আত্রুমণ করতে পারে তা ছাড়া ছেলে ধরা থাকতে পারে। অবশেষে সিন্ধান্ত হল পাশের বাড়ির বল্টু স্কুলে যাবার সময় প্রতিদিন জনিকে নিয়ে যাবে। আবার আসার সময় তাকে বাড়িতে পৌছে দেবে।
একদিন বল্টু সিনেমা দেখতে যাবে। জনিকে সে বুঝালো সিনেমায় যাওয়া দরকার। এখানে গেলে অনেক আনন্দ পাওয়া যায়। আবার অনেক কিছু জানাও যায়। কিন্তু টিকেটের টাকা কে দেবে। বল্টু ভাবলো বাড়িতে বললে হয়তো জনির বাবা জনিকে যেতে দেবে না। তাই সে জনিকে বলল ঠিক আছে তোর টাকা আমিই দেবো। তারপর দু’জন মিলে সিনেমা দেখতে গেলো। হলে প্রবেশ করার কিছুক্ষন পর আস্তে আস্তে পর্দা উঠলো। প্রচন্ড আওয়াজ করে ভিলেন এগিয়ে আসছে হাতে একটা পিস্তল জনি ঠিক বুঝলো বল্টু তাকে কোথায় নিয়ে এসেছে। এতো মানুষের আকৃতিতে ভুত আসছে তার দিকে তাকে কে রক্ষা করবে। মা, তো কাছে নেই। চিৎকার দিয়ে জনি বেহুশ হয়ে গেলো।
বল্টুর তো আক্কেল গুড়–ম সিনেমা রেখে সে জনিকে রিক্সায় করে বাসায় নিয়ে আসলো। জ্ঞান ফেরার পর জনি যখন বল্টুর চেহারা দেখলো তখন আবার চিৎকার দিলো। এখন বল্টুকে ও তার কাছে ভুত মনে হয়।জনি আর বল্টুর সাথে স্কুলে যায়না। অন্য একটা ছেলে এসে তাকে স্কুলে নিয়ে যায়।
একবার জনির হাতের একটা আঙ্গুল কেটে পড়ে যায়। কোন রকম কাপড় দিয়ে আঙ্গুল বেঁধে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ডাক্তার দেখে বলে পাঁছটা সেলাই লাগবে। জনি ভয়ে অস্থির হয়ে উঠে। ডাক্তার ব্যান্ডেজ আনতে গেলে জনি দৌড়ে পালিয়ে যায়। একদিন তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরদিন খবর নিয়ে জানা যায় সে তার খালার বাসায় আছে তাদের কাউকে তার আঙ্গুল কাটার কথা বলেনি। পরবতীতে আঙ্গুলটি এমনিতেই ভালো হয়ে যায়।
জনির ক্লাস মেটদের সবার কানে ঘটনাটি পৌছে। সে স্কুলে আসলে সবাই হাঁসা হাঁসি করে। একবার তার ক্লাশমেটরা কয়েক জন মিলে তাকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা করে। সন্ধ্যার পর ওর এক ক্লাশ মেট ওকে নিয়ে রাস্তার দিকে ঘুরতে বের হয়। একটু দুরে যাবার পর ওর বন্ধুরা প্লান মত খিল খিল হেঁসে উঠে সাদা ড্রেস পরা একজন গাছ থেকে লাফিয়ে জনির সামনে এসে পড়ে জনি ভয়ে বেহুশ হয়ে যায়। পরে তার দুই বন্ধু তাকে ধরে বাসায় পৌছে দেয়। ওর মা অস্থির হয়ে পড়ে কি হয়েছে আমার ছেলের।
ওরা বলে জানিনা ভুত বলে বেহুশ হয়ে গেল। পরদিন হুশ এসেছে বটে কিন্তু সে এখন কেমন যেন হয়ে গেছে। খায়না কথা বলেনা কেউ বলে পাগল হয়ে গেছে। আবার কেউ বলে জ্বিনে ধরেছে। কত ওঝা বৈদ্য আনা হল কিন্তু জনিকে ভালো করা যচ্ছেনা । কেউ কেউ বলছে ভালো কোন সাইক্লিয়াটিষ্ট দেখালে হয়ত ভালো হবে।
অজানা আতঙ্ক
আতিক রাসেল
ওমা ,মা বিস্কিট খাব। মা দাও না বিস্কিট দাও না। ছেলেটা হয়েছে একরোখা স্বভাবের যা বলবে বলতেই থাকবে। যা চাইবে তা তাকে দিতেই হবে। অভাবের সংসার কুলসুমদের, শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর-ননদ মিলে নয় জন সদস্য তাদের পরিবারে। অথচ তার স্বামী করিম এই সংসারে এক মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি তার পক্ষে বিশাল পরিবারের সবার মুখে দু’বেলা মুঠো খাবার তুলে দেয়া ও সম্ভব হয়না। ছেলের বায়না পুরন করাতো দুরের কথা...........।
করিম ঘরে এসে দেখে ছেলে কাঁদছে। বৌকে জিজ্ঞেস করে,“ছেলে কাঁদছে কেন?” বিস্কিট খাবে ওকে বিস্কিট দেই কোত্থেকে। আজকাল বাজারের যা অবস্থা শুধু চাউল কিনতেই পকেটের টাকা পুরিয়ে যায়। যেই লঙ্কায় যায় সেই হনুমান হয়। লোকজনকে দ্রব্য মূল্যের দাম কমাব ঐ করব সেই করব বলে ক্ষমতায় আসে। তার পর সব ওয়াদা ভুলে নিজের আখের গোছাতেই ব্যস্ত হয়ে যায়।
এই থাম, ভাত খেতে পাইনা উনি বিস্কিট খাবে। কুলসুম ছেলেকে থামানোর চেষ্টা করে কিন্তু জনি থামতে চায়না। কুলসুম বলে ভুত, ঐ যে ভুত আসছে ধরে নিয়ে যাবে। ভয়ে ভয়ে জনি থামে।
পরদিন আবার জনি কাঁদে মা পিঠাখাব কুলসুম ছেলেকে থামতে চেষ্টা করে থেকে পারেনা শেষে বলে বিড়াল আসতেছে বিড়াল। পাশে থেকে ওর ননদ ম্যাউ ম্যাউ বলে চিৎকার করে ভয়ে ভয়ে জনি থামে একসময় ঘুুুুুমিয়ে যায়।
পাশের ঘরের কেউ একজন চিপস খাচ্ছে জনি এসে মাকে বলে মা চিপস দাও। কান্নাকটি শুরু করে। কখনো বুঝিয়ে, কখনো ধমক দিয়ে, আবার কখনো ভুতের ভয় দেখিয়ে ছেলেকে ভুলিয়ে রাখে কুলসুম। করিম এই মাত্র মাঠ থেকে কাজ করে ফিরেছে মেজাজ চড়া। সারাদিন খাটাখাটনি করায় মেজাজ এমনিতেই হাই স্কেলে থাকে। বাসায় ফিরে কন্নাকাটি দেখতে ভালো লাগেনা তার। ছেলেকে কাঁদতে দেখে। একটা ধমক দেয় সে থাম ! জনি ভয় পায় কিছুক্ষণ পর আবার চিপসের জন্য কেঁদে উঠে। করিম ধপাস করে একটা থাপপড় মারে জনির গায়ে ছেলেটা কাঁপতে কাঁপতে মাকে জড়িয়ে ধরে।
ছেলের কান্না থামানের জন্য কুলসুম মাঝে মাঝে বলে তোর আব্বু আসতেছে থাম । জানি ভয়ে ভয়ে থামে। সে বুঝে বিড়াল ভুত, আব্বু এগুলো হিং¯্র প্রাণী। মাঝে মাঝে কুলসুম বাঘের ভয় দেখায় শিয়ালের ভয় দেখায়। জনি ভাবে তার চারপাশে অসংখ্যা হিং¯্র প্রাণী আছে এ গুলো যে কোন সময় তার ক্ষতি করতে পারে।
জনি একটু একটু করে বড় হয়। প্রচন্ড ধরণের আতঙ্ক গ্রস্থ হয়ে সে বেড়ে উঠে। একদিন রাতে কিভাবে যেন তার মশারির মধ্যে একটা তেলা পোকা ঢুকে যায় জনির প্রচন্ড চিৎকার আর চেচামেচিতে। সবই এসে জড় হয়ে দেখে একটা তেলা পোকা। বাড়িতে হাঁসির রোল পড়ে যায়।
জনি রাতে ঘর থেকে বেরুতে পারেনা অন্ধকারে তার ভয় লাগে ভুতের ভয়। প্র¯্রাব করতে হলে কুলসুমকে বেরুতে হয় তবু ও মাঝে মাঝে দৌড় দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ে সে দেখে বিশাল দেহ বিশাল বিশাল পা ওয়ালা ভুত তার দিকে এগিয়ে আসছে।
তার মা তাকে স্কুলে ভর্তি করালো কিন্তু সে একা একা স্কুলে যেতে চায়না। রাস্তা ঘাটে দিনের বেলায় ও ভুত জ্বিন আত্রুমণ করতে পারে তা ছাড়া ছেলে ধরা থাকতে পারে। অবশেষে সিন্ধান্ত হল পাশের বাড়ির বল্টু স্কুলে যাবার সময় প্রতিদিন জনিকে নিয়ে যাবে। আবার আসার সময় তাকে বাড়িতে পৌছে দেবে।
একদিন বল্টু সিনেমা দেখতে যাবে। জনিকে সে বুঝালো সিনেমায় যাওয়া দরকার। এখানে গেলে অনেক আনন্দ পাওয়া যায়। আবার অনেক কিছু জানাও যায়। কিন্তু টিকেটের টাকা কে দেবে। বল্টু ভাবলো বাড়িতে বললে হয়তো জনির বাবা জনিকে যেতে দেবে না। তাই সে জনিকে বলল ঠিক আছে তোর টাকা আমিই দেবো। তারপর দু’জন মিলে সিনেমা দেখতে গেলো। হলে প্রবেশ করার কিছুক্ষন পর আস্তে আস্তে পর্দা উঠলো। প্রচন্ড আওয়াজ করে ভিলেন এগিয়ে আসছে হাতে একটা পিস্তল জনি ঠিক বুঝলো বল্টু তাকে কোথায় নিয়ে এসেছে। এতো মানুষের আকৃতিতে ভুত আসছে তার দিকে তাকে কে রক্ষা করবে। মা, তো কাছে নেই। চিৎকার দিয়ে জনি বেহুশ হয়ে গেলো।
বল্টুর তো আক্কেল গুড়–ম সিনেমা রেখে সে জনিকে রিক্সায় করে বাসায় নিয়ে আসলো। জ্ঞান ফেরার পর জনি যখন বল্টুর চেহারা দেখলো তখন আবার চিৎকার দিলো। এখন বল্টুকে ও তার কাছে ভুত মনে হয়।জনি আর বল্টুর সাথে স্কুলে যায়না। অন্য একটা ছেলে এসে তাকে স্কুলে নিয়ে যায়।
একবার জনির হাতের একটা আঙ্গুল কেটে পড়ে যায়। কোন রকম কাপড় দিয়ে আঙ্গুল বেঁধে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ডাক্তার দেখে বলে পাঁছটা সেলাই লাগবে। জনি ভয়ে অস্থির হয়ে উঠে। ডাক্তার ব্যান্ডেজ আনতে গেলে জনি দৌড়ে পালিয়ে যায়। একদিন তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরদিন খবর নিয়ে জানা যায় সে তার খালার বাসায় আছে তাদের কাউকে তার আঙ্গুল কাটার কথা বলেনি। পরবতীতে আঙ্গুলটি এমনিতেই ভালো হয়ে যায়।
জনির ক্লাস মেটদের সবার কানে ঘটনাটি পৌছে। সে স্কুলে আসলে সবাই হাঁসা হাঁসি করে। একবার তার ক্লাশমেটরা কয়েক জন মিলে তাকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা করে। সন্ধ্যার পর ওর এক ক্লাশ মেট ওকে নিয়ে রাস্তার দিকে ঘুরতে বের হয়। একটু দুরে যাবার পর ওর বন্ধুরা প্লান মত খিল খিল হেঁসে উঠে সাদা ড্রেস পরা একজন গাছ থেকে লাফিয়ে জনির সামনে এসে পড়ে জনি ভয়ে বেহুশ হয়ে যায়। পরে তার দুই বন্ধু তাকে ধরে বাসায় পৌছে দেয়। ওর মা অস্থির হয়ে পড়ে কি হয়েছে আমার ছেলের।
ওরা বলে জানিনা ভুত বলে বেহুশ হয়ে গেল। পরদিন হুশ এসেছে বটে কিন্তু সে এখন কেমন যেন হয়ে গেছে। খায়না কথা বলেনা কেউ বলে পাগল হয়ে গেছে। আবার কেউ বলে জ্বিনে ধরেছে। কত ওঝা বৈদ্য আনা হল কিন্তু জনিকে ভালো করা যচ্ছেনা । কেউ কেউ বলছে ভালো কোন সাইক্লিয়াটিষ্ট দেখালে হয়ত ভালো হয়ে যাবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন